দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
কে এম জয়নুল আবেদীন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারদর ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫০ পয়সায়। ২০২০ সালের পর এই প্রথম ব্যাংকটির শেয়ারদর ২০ টাকার নিচে নেমে এল।
ব্যাংকটির ক্রমবর্ধমান লোকসান, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ এবং পরিচালনাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে শেয়ারদরের এই পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এক দিনেই শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, রোববার ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ২০ টাকা ৬০ পয়সা। সোমবার লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৫০ পয়সায়।
অর্থাৎ এক কার্যদিবসেই প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ারদর ৬৪ টাকায় উঠেছিল। সেই তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
শেয়ারদরের এই দীর্ঘমেয়াদি পতন ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয় মাসে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান
ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের লোকসানের তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটি সমন্বিত হিসাবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। অথচ চলতি বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।
একক হিসাবে লোকসানের পরিমাণ আরও বেশি—৩ হাজার ৩০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিনিয়োগ থেকে আয় কমে যাওয়া এবং আমানতের বিপরীতে মুনাফা বাবদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ।
ব্যাংকটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়।
এটি ব্যাংকটির মোট ঋণ বা বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর প্রায় ৫১ শতাংশ।
আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এ ছাড়া খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি সংরক্ষণেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
২০২৫ সালের হিসাবে ব্যাংকটির প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি ছিল প্রায় ৯২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। বিপরীতে সংরক্ষিত ছিল প্রায় ৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।
ফলে সঞ্চিতি ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।
পরিচালন কাঠামোতেও অনিশ্চয়তা
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকটির পরিচালন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে।
চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োগ করা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছে।
ব্যাংকটির আর্থিক পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং পরিচালন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেয়ারবাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদরের ধারাবাহিক পতন শুধু প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের জন্যই উদ্বেগের বিষয় নয়, সামগ্রিক ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বাজারের আস্থার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি ব্যাংকের শেয়ারদর কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে পুরো ব্যাংকিং খাত একই পরিস্থিতির মুখোমুখি।
বাজার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা, খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রম বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, মূলধন পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর।
বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ব্যাংকটি কত দ্রুত লোকসান কাটিয়ে স্বাভাবিক আর্থিক অবস্থায় ফিরতে পারবে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team